সিলেটে করোনা মোকাবেলায় শামিল হলো নর্থইস্ট হাসপাতালও

বিশেষ প্রতিনিধি

সিলেটে সংক্রমণের সব ধাপই ছুঁয়ে ফেলেছে করোনা। উহানের অদৃশ্য এই দৈত্য প্রবল গতিতে হানা দিয়েছে শান্তির এ জনপদে। প্রতিদিনই সর্বাধিক সংক্রমণের রেকর্ড তৈরী হচ্ছে। বাদ যাচ্ছেননা কেউই। সব শ্রেণী-পেশায় ছড়িয়ে গেছে সংক্রমণ। মাত্র দুই মাসে তাই হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা।

এই ঊর্ধ্বগ্রাফের বিপরীতে মাত্র ১০০ শয্যা নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছিলোনা সিলেটের একমাত্র করোনা চিকিৎসাকেন্দ্র সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন শামসুদ্দিন হাসপাতাল। সিলেটের বেসরকারি চিকিৎসা সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাই পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছিলো সিলেটের স্বাস্থ্য দফতর। এমন আহবানে ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছে সিলেটের নর্থ ইস্ট হাসপাতাল। করোনা রোগীদের সেবা প্রদানে শামসুদ্দিনের সাথে যুদ্ধে নেমেছে সিলেটের বেসরকারি এ মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

সিলেট নগরের চৌহাট্টাস্থ শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল ছিলো করোনা চিকিৎসায় সিলেটে একমাত্র ভরসা। এবার তার সাথে যুক্ত হলো নর্থ ইস্টও। ইতোমধ্যেই সেবা কার্যক্রম শুরু করেছে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলে অবস্থিত হাসপাতালটি। ২০টি আইসিইউসহ ২০০টি বিশেষায়িত শয্যা নিয়ে সোমবার থেকে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিট। হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বর্তমানে সেবা নিচ্ছেন ১৩ জন। এর মধ্যে আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ২ জন।

সিলেট বিভাগে ইতোমধ্যেই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে অর্ধ-সহস্রাধিক আক্রান্ত কেবল সিলেট জেলাতেই। ফলে ১০০ শয্যার একটি মাত্র হাসপাতালে রোগী সামাল দেওয়া যাচ্ছিল না। এদিকে, করোনা সংক্রমণের শুরুতে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের পাশাপাশি সংক্রামকব্যাধি হাসপাতাল ও খাদিমপাড়া সরকারি হাসপাতালকেও করোনা চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করা হলেও এ দুটি হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার উপযোগী নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দুই হাসপাতালের কোনোটিতেই আইসিইউ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন ও পর্যাপ্ত জনবল নেই। খুব বেশি হলে হাসপাতাল দু’টোকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাই খোঁজা হচ্ছিলো বিকল্প উপায়। বেসরকারি হাসপাতাল রিকিইজেশনের চিন্তা করা হয়।

এক্ষেত্রে এগিয়ে আসে নর্থ ইস্ট হাসপাতাল। সরকারের সাথে জয়েন্ট পদ্ধতিতে করোনা রোগীদের সেবা দিতে নীতিগত সিদ্ধান্তের পর সবরকম প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে তারা। সমঝোতার ভিত্তিতে সোমবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলেই হাসপাতালটিতে রোগী ভর্তি শুরু হওয়ার কথা। তবে মন্ত্রনালয়ের অনুমতির অপেক্ষায় না থেকে মানবিক বিবেচনায় সোমবার থেকেই করোনা চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে নর্থ ইস্ট হাসপাতাল।

নর্থ ইস্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসার নয় তলা পুরো একটি ভবন করোনা ইউনিট হিসেবে অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সর্বাধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সব ব্যবস্থাই আছে ভবনটিতে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমের পাশাপাশি রয়েছে প্লাজমা সুবিধাও। ২০০ বিশেষায়িত শয্যার সাথে রয়েছে ২০ শয্যার অত্যাধুনিক আইসিইউ ইউনিটও। ইতোমধ্যে এই ভবনে চিকিৎসাধীন সব সাধারণ রোগীকে অন্য ভবনে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। মানসিক ভাবে দৃঢ় করা হয়েছে চিকিৎসকদেরও।

নর্থ ইস্ট হাসপাতালের ‘কোভিড-১৯’সেবার সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. মো নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুধু সেবার চিন্তা নিয়েই দুঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে নর্থ ইস্ট। তিনি জানান, করোনার পাশাপাশি সাধারণ চিকিৎসা সেবাও চলমান থাকবে তাদের প্রতিষ্ঠানে। আলাদা ভবন এবং ভিন্ন চিকিৎসক দিয়েই পৃথক সেবা দেয়া হবে।

ডা. নাজমুল এ ও আশ্বস্ত করেছেন যে করোনাআক্রান্ত রোগী ও অন্য রোগীদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দেন প্রতিষ্ঠানটির নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান এ চিকিৎসক।