ধর্ষণের ঘটনায় দায় স্বীকার করলেন রনি-রাজন-আইনুদ্দিন

স্টাফ রিপোর্ট:: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, চৌধুরী রাজন ও আইনুদ্দিন।

৫ দিনের রিমান্ড শেষে শনিবার এ তিন আসামি তিনটি পৃথক আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি শেষে সন্ধ্যা ছয়টায় তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।এ নিয়ে এ ঘটনায় স্বীকারোক্তি দিলেন ৬ আসামী।

জানা গেছে, শনিবার বেলা একটার দিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রনি, রাজন ও আইনুদ্দিনকে আদালতে হাজির করা হয়। বিকেলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জিয়াদুর রহমানের আদালতে রাজন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে আইনুদ্দিন ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার আদালতে রনি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আসামিরা উল্লেখ করে, ধর্ষণের পরপরই তারা পালাতে চেষ্টা করে। প্রাইভেট কারটির ভেতরে ধর্ষণ করার পর আতঙ্কের মধ্যে পড়েন তারা। এসময় তারা প্রাইভেটকারটি থেকে আলামত নষ্ট করার কাজ শুরু করে। প্রথমে তারা গৃহবধূ ও তার স্বামীর কাছে টাকা দাবি করে, পরে টাকা না পেয়ে ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে আবার ধর্ষণ করা হয়। ধর্ষণের আগে গৃহবধূকে মারধরও করা হয় বলে তারা জবানবন্দিতে উল্লেখ করে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানান, আদালতে মামলার অভিযুক্ত শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, মো. রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল ১৬৪ ধারায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার শুরু থেকে কারা নেপথ্যে ছিল তা বর্ণনা করে। আলামত নষ্ট করার চেষ্টার বিষয়টিও তারা আদালতকে অবগত করে।

এর আগে শুক্রবার সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় গ্রেপ্তার তারেকুল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুমও রিমান্ডে রয়েছেন।

স্বামীর সাথে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়া গৃহবধূ ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ধর্ষণ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী শাহপরান থানায় ৬ জনের নামোল্লেখ করে এবং আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৬ আসামিসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককেই ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এএসআর/০০৭