ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণ, বাকি দুজনেরও দায় স্বীকার

স্টাফ রিপোর্ট :: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ৬ আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পর সোমবার জবানবন্দি দিলেন গ্রেপ্তার হওয়া বাকি দুই আসামিও।

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন পাঁচ তারেকুল ইসলাম তারেক ও মাহফুজুর রহমান মাসুম। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তাদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক।

এর আগে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে রোববার বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশি পাহারায় তারেকুল ও মাহফুজুরকে আদালতে আনা হয়। এরপর তাদের সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ বিচারক মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করা হয়। পরে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হলে মাহফুজুর রহমান সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে এবং তারেকুল ইসলাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ বিচারক মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে জবানবন্দি দেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী জানিয়েছেন, মামলার দুই আসামির রিমান্ড শেষে আদালতে আনা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। পরে তারা আদালতের বিচারকের কাছে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সন্ধ্যায় আদালতের নির্দেশে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়ার জন্য আলোচিত এই মামলার আসামিদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়ার পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত গ্রেপ্তারকৃতরা সকলই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ধর্ষণের সাথে জড়িত।

এর আগে শুক্রবার ও শনিবার ৫ দিনের রিমান্ড শেষে অপর ছয় আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এর মধ্যে শুক্রবার জবানবন্দি প্রদান করেন সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম এবং শনিবার জবানবন্দি প্রদান করেন শাহ মো. মাহবুবুর রহমান ওরফে শাহ রনি, রাজ চৌধুরী রাজন ও আইনুদ্দিন।

স্বামীর সাথে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যাওয়া গৃহবধূ ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কলেজ ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যায়। ধর্ষণ ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা সকলেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূর স্বামী শাহপরান থানায় ৬ জনের নামোল্লেখ করে এবং আরও ২/৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত ৬ আসামিসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককেই ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

এএসআর/০০৭