ইলিশের আশায় মেঘালয়!

রিয়েলটাইমস ডেস্ক :: সিলেটের সঙ্গে মেঘালয়ের দীর্ঘ সীমান্তকে ব্যবহার করে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি যৌথভাবে রুপরেখা প্রকাশ করেছে মেঘালয়ভিত্তিক গারো হিলস বর্ডার ট্রেড এন্ড চেম্বার অব কমার্স এবং মনিপুর ভিত্তিক মোরে টাউনের বর্ডার ট্রেড এন্ড চেম্বার অব কমার্স।

এতে স্বাভাবিকভাবেই সিলেটকেন্দ্রিক সীমান্ত সংলগ্ন অবকাঠামার উন্নয়ন প্রাধান্য পেয়েছে। এমনকি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ফ্রি ট্রেড রেজিম গড়ে তোলার বিষয়ে সুপারিশ এসেছে। সব থেকে ইতিবাচক দিক হলো, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার যখন বাংলাদেশকে ‘গরিব’ ভেবে অনুপ্রবেশের জন্য বাংলাদেশিদের কটাক্ষ করে। তারা ভাব দেখায়, বাংলাদেশিরা সুযোগ পেলেই ভারতে ছুটবে। তাই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাঙলাদেশিদের কীটপতঙ্গ বলেও উপহাস করেছেন। কিন্তু মেঘালয়ের এই রূপরেখায় বাঙলাদেশকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়। কারণ তাদের জিডিপি বাড়ছে। সেজন্য তারা মেঘালয়ের পরিত্যক্ত বিমানবন্দর চালু করতে চাইছে। সবথেকে মজার বিষয় হলো, ইলিশের দিকেও অবশেষে তাদের নজর লেগেছে। তারা প্রস্তাব করেছে সিলেট সীমান্ত পথেও বাংলাদেশি ইলিশ আমদানির। এটি শনিবার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য সেন্টিনেলে ছাপা হয়েছে। রুপরেখাটি তৈরি করেছেন শাহ মো. ফরিদ। তিনি বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বিষয়ক একজন কনসালটেন্ট। নর্থইস্ট ইন্ডিয়া-আসিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।

রূপরেখায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উভয় দেশের ইতিহাসে একটা বিশেষ অবস্থান নিয়ে আছে। বাংলাদেশ ছিল অবিভক্ত ভারতের অংশ। সে কারণেই এই অঞ্চলের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এমনকি এখনও উভয় দেশের মধ্যে একটা আন্তঃসীমান্ত সম্পর্ক রয়েছে। পরস্পরের মধ্যে রয়েছে আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের যাতায়তের সম্পর্ক। উত্তর-পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি বিশেষ করে আসামের সংস্কৃতির সঙ্গে বাংলাদেশের যথেষ্ট মিল রয়েছে। মৎস্যজাত পণ্য এবং সংগীতের প্রতি রয়েছে অভিন্ন অনুরাগের সম্পর্ক। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের রয়েছে উজ্জ্বল সম্ভাবনা। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক সহ বহুক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক আরো প্রসারিত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আমি কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোকপাত করব।

কানেক্টিভিটি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ নিয়ে বহু বছর ধরে নানা বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে গৌহাটিতে সহকারি বাংলাদেশ হাই কমিশনের অফিস উন্মুক্ত করাকে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। স¤প্রতি উভয় দেশের মধ্যে নৌ পথ খুলে দেয়া হয়েছে। উত্তরপূর্ব ভারতীয় অঞ্চলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে চিহ্নিত করা হয়েছে আটটি রুট। এসবই তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। গতবছর চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য উভয়পক্ষের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি। এর আওতায় উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে বাংলাদেশ হয়ে সারা বিশ্বে পণ্য আসবে এবং যাবে। ২০১৫ সালে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচলের চুক্তি হয়েছে। এজন্য চট্টগ্রাম এবং মংলা বন্দরকে ব্যবহার করার জন্য পণ্য চলাচলের জন্য আলাদা চুক্তি করা হয়েছে। গতবছর নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর সফরকালে আরো একটি তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়ন সম্পাদিত হয়েছে। এসময় উভয় দেশের মধ্যে ফেনী নদীর বাংলাদেশ অংশ থেকে ত্রিপুরার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর সাবরুমের জন্য পানি উত্তোলনের চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যে একটি ল্যান্ড রুট কানেক্টিভিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রুটটির মধ্যে বাস চলাচল চালু করা হয়। এই রুট হচ্ছে কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা এবং ঢাকা-শিলং- গৌহাটি বাস রুট। দু’দেশের এই ল্যান্ড রুট কানেকটিভিটির মধ্যে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে স্থানীয় সীমান্ত বিষয়গুলো। এর প্রাণ হলো সীমান্ত বাণিজ্য। যা খুবই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। এরমধ্যে রয়েছে মেঘালয়ের গারো হিলস সংলগ্ন ডালু সীমান্ত। করিমগঞ্জে রয়েছে সুতারকান্দি স্থল সীমান্ত।

সীমান্ত শহর তামাবিলের ডাউকি একটি স্ট্র্যাটেজিক ল্যান্ড বর্ডার হাট। এটি মেঘালয়ের জৈন্তিয়া হিলস সংলগ্ন। মেঘালয়ের রাজধানী শিলং থেকে এই ল্যান্ড বর্ডারের দূরত্ব আনুমানিক ৮৫ কিলোমিটার। বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া সীমান্ত হাট লিংখাত বাংলাদেশের মুক্তাপুর সংলগ্ন। ডাউকি থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। ভারত এবং বাংলাদেশ উভয়দিকে চলাচলের দিক থেকে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট।

তামাবিল ল্যান্ড বর্ডার স্টেশন থেকে রপ্তানি হওয়া বিষয়ের মধ্যে রয়েছে কয়লা। যদিও বর্তমানে কয়লা খনি বন্ধ রয়েছে। আর রয়েছে বোল্ডার এবং লাইমস্টোন। এগুলোর উৎস খাসি এবং জৈন্তা পাহাড়। এই রুটে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে কৃষিভিত্তিক পণ্য, গার্মেন্টস প্রভৃতি। এর বেশিরভাগই আসছে সীমান্ত হাট থেকে।

এটা উল্লেখযোগ্য যে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোলের পরে তামাবিলই সবথেকে ব্যস্ততম বর্ডার। আর সেটি সিলেটের বিভাগীয় শহর থেকে কাছে। খাসি এবং জৈন্তা পাহাড়ের মধ্যে লাইফলাইন হচ্ছে উমংগট। এই নদীর উপর নির্মিত রেমিংটন স্টিল সেতুটি দুর্বল। এই এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের (সিলেট সীমান্তের) সঙ্গে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি তার মধ্যে সীমান্ত এলাকা সংশ্লিষ্ট সম্পদ এবং সুযোগ রয়েছে, তার পূর্ণ সদ্ব্যবহার করা। এর একটা তালিকা আমি নিচে দিচ্ছি।

১. সীমান্তমুখী সড়কের উন্নয়ন ঘটানো। মনে রাখতে হবে যে খাসি এবং জৈন্তা থেকে প্রত্যেক দিন সীমান্তে বোল্ডার পরিবহন চলে।

২. খাসি এবং জৈন্তা পাহাড়ের মধ্যে লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে উমনগট।
তাই এই নদীর উপর অবিলম্বে একটি কংক্রিটের নির্মিত বিকল্প সেতু জরুরি হয়ে পড়েছে। এই নদীর উপরে একটি বিকল্প কংক্রিটের ব্রিজ তৈরি করা সম্ভব হলে ভারতীয় এবং বাংলাদেশি পর্যটকরা দলে দলে উমনগট নদী দর্শনে আসবেন। সেই সব পর্যটকদের যাতায়াতের জন্য সেটা একটা বিরাট সুবিধা এনে দেবে। আবার বাণিজ্যিক পণ্যবাহী পরিবহনও ভালোভাবে চলাচল করতে পারবে।

এখানে উল্লেখ্য যে, উমনগট নদীর স্ফটিক পানি পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। এটি নৌবিহার এবং বিনোদনের জন্য একটা অপূর্ব জায়গা।

৩. তামাবিল সীমান্তে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের ব্যবস্থা গতিশীল করতে হবে। ল্যান্ড কাস্টমস অফিস ঢেলে সাজাতে হবে। এটাকে আরো আপগ্রেড করতে হবে। যাতে বাণিজ্যিক ট্রাকগুলো ভালোভাবে চলাচল করতে পারে। আমাকে এটা বলা হয়েছে যে খাসি এবং জৈন্তা থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত বাণিজ্যিক ট্রাক চলাচলকালে অযথা সময় নষ্ট হয়।

৪. মেঘালয় টুরিস্ট ইনফর্মেশন অফিসক আরও উন্নত করতে হবে। যাতে পর্যটকরা সীমান্তের চেক পয়েন্টে হয়রানির শিকার না হন।

রুপরেখায় এই পর্যায়ে বলা হয়েছে, গারো হিলস সীমান্ত শহর ডালু। উত্তর-প‚র্ব ভারতের প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে এর বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। ডালু শহরের এবং উত্তর-প‚র্ব ভারতের বিজনেস হাব হিসেবে খ্যাত গৌহাটি। আর এটাই সবথেকে নিকটতম আন্তর্জাতিক সীমান্ত। গৌহাটি থেকে চার ঘন্টায় যে কেউ তুরায় পৌঁছাতে পারে এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারে ডালুতে। আর বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁয়ের নালিতাবাড়ী থেকে তিন ঘন্টায় যে কেউ পৌঁছে যেতে পারে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায়। সুতরাং যে কেউ গৌহাটি থেকে ঢাকা যেতে পারে প্রায় ১০ ঘন্টায়। এটা সম্ভব এবং এটা ব্যয়বহুল নয়।

কয়লা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ার পর থেকে ডালু সবথেকে শান্ত শহরে পরিণত হয়েছে। এখন সেখান থেকে সামান্য পরিমাণ বোল্ডার রপ্তানি হয়। কয়লা এবং বোল্ডার্স কেবল মাত্র দুটি প্রধান পণ্য, যা শুধু ডালু থেকেই রপ্তানি হয় তা নয়। অন্য তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত ঘাচুপাড়া, বাগমারা এবং মহিন্দ্রগঞ্জ থেকেও রপ্তানি হয়ে থাকে। তাই এই অঞ্চলের জন্য সীমান্ত বাণিজ্য সুবিধাজনক করে তুলতে কিছু বিষয়ের দিকে মনোযোগ দেয়া দরকার।

১. কয়লা এবং বোল্ডার রপ্তানির বাইরে কি কি রপ্তানি করা যায় সেদিকে নজর দিতে হবে। ডালু থেকে রপ্তানির জন্য আদা এবং কমলালেবু প্রভৃতি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভাবা যায়। এই সীমান্ত শহরটিতে বাংলাদেশ থেকে প্লাস্টিক পণ্য, সিমেন্ট, পরিশোধিত তেল, মশারি প্রভৃতি আনা যায়। ত্রিপুরা সীমান্তে যেমনটা আমরা দেখছি, সেভাবে এই ডালু সীমান্ত দিয়েও বাংলাদেশের মাছ আমদানিকে আমরা উৎসাহিত করতে পারি।

২. সীমান্ত সংলগ্ন বর্তমানে যে গুদামঘর রয়েছে, তার যদি আরো আধুনিকায়ন এবং সম্প্রসারণ ঘটানো যায়, তাহলে সীমান্ত এলাকার সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।
৩. সিলেটের সঙ্গে বর্ডার হাট স্থাপন করতে হবে। এটা সম্ভব হলে মনিপুরের মোরে সীমান্ত হাট যেভাবে দু দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ সম্পর্ক এবং বানিজ্য বাড়িয়েছে, সেটা সিলেট অঞ্চলেও ঘটতে পারে।

৪. বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে মেঘালয় সরকারের উচিত হবে ইতিপ‚র্বে পরিত্যক্ত ঘোষিত বালজেক বিমানবন্দরকে পুনরায় চালু করা।

৫. ডালু শহরে রয়েছে বিরাট বাণিজ্যের শহরে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা। যেমনটা রয়েছে ঘাচুপাড়ার। তার রয়েছে দুটি করে এন্ট্রি এবং এক্সিট পয়েন্ট। বাগমারা মহিন্দ্রগঞ্জ এবং ঘাচুপাড়া, অবশ্য এই তিনটিরই রয়েছে বাংলাদেশের (সিলেটের) সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত।
এটা স্মরণ রাখতে হবে যে বাংলাদেশের জিডিপি বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। কয়লা ও বোল্ডার রপ্তানির জন্য তামাবিল সীমান্ত বিখ্যাত। উমনগট নদীর বিদ্যমান ব্রিজ অনেক পুরানো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত টিকে আছে। তাই একটা বিকল্প কংক্রিটের ব্রিজ তৈরি করা অবশ্যই দরকার। এখানে একটা ভালো ব্রিজ হলে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়বে। আর প্রকারান্তরে খাসি ও জৈন্তা পাহাড়িদের কর্মসংস্থানের উল্লেখযোগ্য চাহিদা মেটাবে।

বানিজ্য ঘাটতি একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়। রপ্তানিতে প্রতিযোগিতার অভাব রয়েছে। এটা ম্যাচ করছে না। বিশেষ করে ভারত যা আমদানি করছে বাংলাদেশ থেকে, সেখানে গার্মেন্টসই অনেক বেশি। ভারত রপ্তানি করছে খুব কম এখান থেকে। এটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভাল সম্পর্ক তৈরী করার জন্য।
বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশিদার। ২০১৮-২০১৯ সালে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানির পরিমাণ ৯.২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং আমদানির পরিমাণ একই সময়ে ১.০৪ বিলিয়ন ডলার। ভবিষ্যতের জন্য দরকার একটা সহজ ভিসা আদান-প্রদানের ব্যবস্থা। দুই দেশের জনগণের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ দেয়া দরকার। এবং এজন্য প্রথম যে সুযোগ দিতে হবে সেটা হচ্ছে পর্যটনে। পর্যটন উভয় দেশের সম্পর্কোন্নয়নে বিরাট ভ‚মিকা রাখতে পারে এবং রাখবে।

বাংলাদেশিরা যেহেতু মেঘালয় সীমান্ত থেকে সহজে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে তাই মেঘালয়ের পর্যটনের জন্য এটা হবে একটা বড় ধরনের উন্নয়ন। মিজোরামও এই লক্ষ্যে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে। কারণ তাদের রাজ্যটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেশ কাছে।
উত্তর-প‚র্ব ভারতের রাজ্যগুলো বাংলাদেশীদের জন্য অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারে। বাংলাদেশ এবং উত্তর-প‚র্ব ভারতের উচিত হবে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা। এই কমিটিতে বাণিজ্য পর্যটন এবং বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট মানুষকে যুক্ত করতে হবে। তারা নিয়মিত বৈঠক করবেন। বিশেষ করে তারা মৌলিক সমস্যাগুলো হাইলাইট করবেন। এবং তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কি কি করা দরকার, সেসব বিষয় তারা তুলে ধরবেন। এবং তাকে সমাধান দিতে হবে।

এই লক্ষ্যে তামাবিলে কাস্টমসের ছাড়পত্র যাতে দ্রুততার সঙ্গে দেয়া হয় সেই পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে উভয় দেশের মধ্যে পণ্য চলাচল গতি সঞ্চার হবে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনাকে সবসময় পৃষ্ঠপোষকতা দিতে হবে। যেমন বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস এবং ভারতের দিক থেকে আইটি এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয় নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করতে হবে। তৈরি করতে হবে অবাধ বাণিজ্য সুবিধা বা ফ্রি ট্রেড ব্যবস্থা। এটা গড়ে তুলতে পারলে তা উভয় দেশের বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে ত্বরান্বিত করবে।’ [সৌজন্য: একাত্তরের কথা]

এএসআর/০০৭